বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবসে চারণভূমি ও তৃণভূমি পুনরুদ্ধারের আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর
বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চারণভূমি ও প্রাকৃতিক তৃণভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ভূমি অবক্ষয়, খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দে পৌঁছানোর পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস কেবল একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়; এটি ভূমি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এবারের প্রতিপাদ্য “Rangelands: Recognize, Respect, Restore” বিশ্বের চারণভূমি ও তৃণভূমি ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক স্থলভাগ কোনো না কোনো ধরনের চারণভূমি ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত, যা খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পানি চক্র বজায় রাখা এবং কার্বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ মরুভূমির দেশ না হলেও ভূমি অবক্ষয়, খরা, লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমি, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমি এবং নদী অববাহিকার ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, গবেষণা অনুযায়ী দেশে মাঝারি থেকে অতি তীব্র মাত্রার ভূমি অবক্ষয়ের পরিমাণ ২০০০ সালের ১০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ১১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন হেক্টরে পৌঁছেছে। একই সময়ে খরাপ্রবণ এলাকার পরিমাণও বেড়ে দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশের ভূমি ও পানি সম্পদের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন, পানিসম্পদ ও মানুষের জীবিকা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের মরুময়তা প্রতিরোধ কনভেনশন (ইউএনসিসিডি)-এ স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সামাজিক বনায়ন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা, জৈব সার ব্যবহার এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসলের সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।
বৈশ্বিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ভূমি অবক্ষয় ও খরা বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থায়ন এবং জ্ঞান বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ভূমি পুনরুদ্ধার ও খরা মোকাবিলায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভূমি অবক্ষয় নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার অবক্ষয়প্রাপ্ত বনভূমি, জলাভূমি, চরাঞ্চল ও অন্যান্য ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করবে। পাশাপাশি খরা মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হবে।
কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদরা উপস্থিত ছিলেন।





