নরসিংদীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫০ পূর্বাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদী রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি সমর্থকদের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: হরিদাসের অর্থের উৎস ও দাতাদের পরিচয় জানতে চায় পুলিশ

নিহত অনিক (২০) উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁ পূর্বপাড়া গ্রামের ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার সকালে বেশকয়েকটি স্পিডবোটযোগে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষই বন্দুক যুদ্ধে  জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ সহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত একটানা চলতে থাকে। এতে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলে অবস্থার অবগতি হলে পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০) সহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপনে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, থমকে উত্তরবঙ্গের রেলপথ

খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরজ করছে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়া রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।