নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৯ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীর সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের মেঘনা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া অটোরিকশা চালক সারোয়ার হোসেনকে (২২) কুপিয়ে হত্যার রহস্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। আর্থিক বিরোধ ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ হত্যা্কাণ্ড বলে জানান পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে অটোরিকশা ও ব্যাটারি সহ গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংদী মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে সাংবাদিকের বাসায় দূর্ধর্ষ চুরি

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার হারুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৭) ও নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে আশিক (২১)। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, নিহত অটোচালক সারোয়ার হোসেন নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী গ্রামের হাজী রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে শহরের টাওয়াদী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১

গত ১৩ জুন দুপুরে সারোয়ার টাওয়াদী এলাকা থেকে তার অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পাননি। পরের দিন অর্থাৎ গত ১৪ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকার মেঘনা নদীর পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী রহমান বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুকের নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোয়েন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তির ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। তিনি আরও জানান নিহত সারোয়ারের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আনোয়ারের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন আনোয়ার কৌশলে সারোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে যায় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর ব্যাটারিগুলো অন্যত্রে বিক্রি করে দেয়। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা ও বিক্রিত ব্যাটারিগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।