অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু চবির শাহ আমানত হল: নেপথ্যে হল প্রভোস্ট

Sanchoy Biswas
মো. সাবিত বিন নাছিম, চবি
প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:২২ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাহ আমানত হলের বেহাল দশা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত এই হলের সার্বিক অবস্থা ও দায়িত্বহীন প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল প্রাঙ্গণের গাছ অবাধে কাটা হচ্ছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে এবং গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদের প্রভাবে শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হবে। দেয়ালের পলিস্তর খসে পড়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের প্রভাবে আমানত হলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা মাউশির

হল রুমের লকার ও জানালা ভাঙা থাকলেও শিক্ষার্থীরা মেরামতের কোনো আশা দেখছেন না। পর্যাপ্ত পানির ফিল্টার না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পানির সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া পানিতে অতিরিক্ত আয়রনের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কিন সমস্যা থেকে শুরু করে চুলপড়া বা অকালে টাক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মশার উপদ্রব, অপর্যাপ্ত বাথরুম সরঞ্জাম (আয়না, শাওয়ার, হাই কমোড, লাইট) এবং অপরিচ্ছন্ন বাথরুমের ভোগান্তিতেও নাভিশ্বাস পাচ্ছেন। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, মিল সিস্টেমে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। অনেকদিন ধরে তারা এই বৈষম্য অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন: জবিতে সরস্বতী পূজায় এবারও নারী পুরোহিত

সম্প্রতি হল প্রাঙ্গণে সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী, বিশেষ করে টিন ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রভোস্টকে জানানো হলেও তিনি আমলে নেননি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

হল প্রশাসনের কাজে উদাসীনতার কারণে এর আগেও প্রভোস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসানকে শিক্ষার্থীরা হল অফিসে অবরুদ্ধ করেছিলেন।

প্রভোস্টের অসংগতি ও সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, "দায়িত্বে গাফিলতি ও প্রয়োজনীয় কাজের উদ্যোগে অসংগতির কারণে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। তাতেও কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়েনি। তিনি বেশিরভাগ সময়ই হলে থাকেন না। দায়িত্ব অবহেলা করেন। যে কোনো বিষয়ে পরামর্শ করতে গেলে তিনি বলেন ‘বাজেট নেই, বাজেট আসলে দেখা যাবে।’ আমরা আরও দায়িত্বশীল ও নীতিবান প্রভোস্ট চাই।"

শাহ আমানত হল সংসদের জি এস আবিদ বলেন, "হল সংসদ নির্বাচনের পর প্রভোস্টের উদাসীনতার কারণে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। পরবর্তীতে ভিসি ও প্রো-ভিসি স্যারের সঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। আমরা ১৫টি দাবি জানিয়েছিলাম। এর মধ্যে ক্যান্টিন ও সাইকেল স্ট্যান্ড চালু হয়েছে, বাকি কাজের জন্য আমরা প্রভোস্টের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি দায়িত্বশীল না হওয়ায় কাজ ধীরে হচ্ছে। কোনো উদ্যোগের কথা বললেই তিনি বাজেটের স্বল্পতার অযুহাত দেখান।"

গণমাধ্যম থেকে শাহ আমানত হল প্রভোস্টের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।