নয়াপল্টনে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে শারমিন একাডেমির এডমিন অফিসার গ্রেফতার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৭ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে চার বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বিদ্যালয়টির এডমিন অফিসারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন শারমিন একাডেমির এডমিন অফিসার পবিত্র কুমার বড়ুয়া (৪৭)। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল শারমিন জাহানের স্বামী।

আরও পড়ুন: সরিষার মাঠে মৌমাছির উৎসব, মধু চাষিদের কর্মব্যস্ততা

পল্টন মডেল থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকার মিরপুর-৬ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু মুহাম্মদ ফারয বিন আমান (৪) গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে শারমিন একাডেমির প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে শিশুটির মা তাকে স্কুলে রেখে যান।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

দুপুরে শিশুটিকে নিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান তার অফিস কক্ষে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধরে রেখেছেন এবং সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া। শিশুটিকে ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে বাসায় ফিরে শিশুটি জানায়, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিষয়টি অভিভাবককে জানালে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সংগৃহীত ফুটেজে শিশুটিকে অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যায়।

নির্যাতনের পর শিশুটির মাথা, গলা ও কানে ব্যথা দেখা দিলে তাকে প্রথমে নয়াপল্টনের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ২২ জানুয়ারি ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পল্টন মডেল থানায় শিশু আইনে মামলা রুজু করা হয়। মামলায় শারমিন একাডেমির প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এবং তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে আসামি করা হয়।

পল্টন মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, পিপিএম।