ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’, কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টির আভাস

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫২ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে এ বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল (বিডব্লিউওটি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আংশিক এই বৃষ্টিবলয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগ-এ দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ রাতে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ দিয়ে বৃষ্টিবলয়টি দেশে প্রবেশ করে আগামী ১৮ মার্চ উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।

আরও পড়ুন: ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রবৃষ্টির আভাস, ৩ অঞ্চলে হতে পারে ঝড়

বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’র প্রভাবে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ পুরোপুরি সক্রিয় থাকতে পারে। এছাড়া ঢাকা বিভাগ-এর উত্তর-পূর্বাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগ-এর উত্তরাংশ এবং রংপুর বিভাগের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও এর প্রভাব বেশি থাকবে। এসব এলাকায় কয়েক দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ও রংপুর বিভাগের বাকি অংশ, রাজশাহী বিভাগ এবং খুলনা বিভাগ-এর উত্তরাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সক্রিয়তা তুলনামূলক কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের সব বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি, তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা

বৃষ্টিবলয় চলাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রপাত এবং বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। এ সময় উত্তর বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল থাকতে পারে।

এদিকে বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় সীমিত আকারে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে এই বৃষ্টিবলয়ের কারণে বন্যার আশঙ্কা নেই।

চৈত্র মাসের এই বৃষ্টিবলয় কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশ্লেষকরা। বিডব্লিউওটির মতে, এ বৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকার সেচের চাহিদা পূরণ হতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকায় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকতে পারে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির বিরতির সময় কিছুটা ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৩ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’ সক্রিয় থাকবে এবং ১৬ মার্চ পর্যন্ত এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।