আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

খেলোয়াড় হেনস্থা ও পক্ষপাতমূলক বিচারের ঘটনায় পাঁচ ছাত্র সংসদের তীব্র নিন্দা

Sanchoy Biswas
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৮ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ পক্ষপাতমূলক বিচার, খেলোয়াড়দের হেনস্থা এবং জোরপূর্বক আটকে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকবৃন্দ।

শুক্রবার (৮ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রীড়া আয়োজন শুরু থেকেই চরম অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্কুল-কলেজে ১৬, মাদ্রাসায় ছুটি ২১ দিন

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার বাস্কেটবল ইভেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সেমিফাইনাল ম্যাচে রেফারিদের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত ও আয়োজক দলের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকির ঘটনাও ঘটে।

তারা বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।

আরও পড়ুন: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে তোড়জোড়

ক্রীড়া সম্পাদকরা আরও অভিযোগ করেন, ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে একই ধরনের পক্ষপাতমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হলে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা প্রতিবাদস্বরূপ মাঠ ত্যাগ করতে চান। এ সময় মেইন গেটে তালা লাগিয়ে খেলোয়াড়দের জোরপূর্বক আটকে রাখা ও হেনস্থা করা হয়, যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আয়োজক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি, স্বাধীন রেফারি প্যানেল গঠন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল নিয়োগের দাবি জানান।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রীড়া চর্চার নামে এমন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অশনিসংকেত। মাঠে ন্যায়বিচার ও খেলোয়াড়দের সম্মান নিশ্চিত না হলে সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে উঠবে না।

একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় তারা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ও আইনি প্রতিকারের পথে এগোবেন বলেও জানান।