বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত বিশ্বের উপযোগী করে গড়তে হবে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৫ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় দেশগুলোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিশুদের মতোই ছোট্ট, সুন্দর, পরিপাটি এবং ধীশক্তিসম্পন্ন বাংলাদেশের শিশুদের গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখেন, সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে আমাদের সকল শিশুকে। গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বইয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা ব্যবসাকে আরও উপযোগী করে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের বইকে, বাংলাদেশে মুদ্রিত বইকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় প্রমাণ করতে হবে।

আরও পড়ুন: নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

বাপুস সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি। সাধারণ সভায় বাংলাদেশের সকল জেলার বাপুস নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাজারে এখনও নোট গাইড থাকুক, আমি তা চাই না। শিক্ষকরা পাঠ্য থেকে প্রশ্ন না করে গাইড বই থেকে প্রশ্ন করেন। এতে গাইড বইয়ের প্রকাশক, বিক্রেতা ও লেখকের সঙ্গে শিক্ষকদের অলিখিত অবৈধ চুক্তি বাস্তবায়ন হয়। প্রকাশক, বিক্রেতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণির অসাধু শিক্ষকের সঙ্গে সমঝোতা হয়। গাইড বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ে। শিক্ষকরা গাইড বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীর আগ্রহ বাড়ান। এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আরও পড়ুন: এসডিএফ'র চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগের দাবিতে কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে প্রস্তুত বলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। মুদ্রণ, বাঁধাই, কাগজ ইত্যাদি আরও উন্নত হতে হবে। এনসিটিবির মুদ্রণ কাজেও প্রকাশকদের এগিয়ে আসতে হবে উন্নতমানের মুদ্রণের জন্য, সুন্দর পরিচ্ছন্ন বই প্রকাশের জন্য।

ড. মিলন বলেন, অনেকেই বলছেন প্রযুক্তির কাছে বই হারিয়ে যাবে, মুদ্রিত বই থাকবে না। আসলে তা নয়। কম্পিউটার কর্মসংস্থান খেয়ে ফেলেনি, বরং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি। মুদ্রিত বই অবশ্যই থাকবে, আরও বাড়বে।

বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ড. মিলন বলেন, সামাজিক সকল অনুষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই উপহার দিলে বইয়ের গুরুত্ব আরও বাড়বে।

বিশেষ অতিথি মীর শাহে আলম বলেন, প্রকাশনা শিল্পকে উন্নত করা এবং সহজ শর্তে প্রকাশক ও বই বিক্রেতাদের ঋণ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারকে অনুরোধ করবেন। তিনি বাংলা একাডেমি ও বইমেলার কার্যক্রমকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে করার জন্য প্রকাশকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উপজেলা পর্যায়ে বইমেলার আয়োজন করে সারাদেশে সৃজনশীল বই ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন প্রকাশকদের। উপজেলা পর্যায়ে বইমেলার আয়োজকদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

বইয়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বইবান্ধব, শিক্ষিত একটি জাতি গঠনে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।

বিশেষ অতিথি ইশরাক হোসেন এমপি বলেন, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির ভাষণে রেজাউল করিম বাদশা এমপি বলেন, গত ১৭ বছর প্রকাশনা সেক্টরে যারা লুটপাট করেছে তারা পালিয়ে গেছে। এখন সমিতির হাল ধরতে হয়েছে আমাকে। তিনি ২৬ হাজার বিক্রেতা ও প্রকাশকের দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. আব্দুল আজিজ।