বগুড়ায় এসপির নাম ভাঙিয়ে আইসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ায় পুলিশ সুপারের (এসপি) নাম ভাঙিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তিনি বগুড়া সদর থানার অধীনস্থ স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত আছেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর থানার মালগ্রাম এলাকায় একটি ভেটেরিনারি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এতে উক্ত কারখানার কাগজপত্র অবৈধ ঘোষণার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) কামরুজ্জামান।

আরও পড়ুন: শনিবার কুলাউড়া ও জুড়ীতে বিদ্যুৎ থাকবে না সারাদিন

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৫ মে) কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী তিন ব্যক্তি কারখানাটিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে “ভুয়া” দাবি করে অভিযান চালায়। এ বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) কামরুজ্জামান। পরে তিনি কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে কারখানার মালিক ও বাড়ির মালিককে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বিষয়টি “সমাধান” করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ধারী তিন ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা এবং আইসি কামরুজ্জামান ৩০ হাজার টাকা নেন। তবে এখানেই শেষ নয় অভিযোগের নাটকীয়তা। দুই দিন পর আবারও আইসি কামরুজ্জামান বাড়ির মালিকের কাছে গিয়ে পুলিশ সুপারকে (এসপি) ম্যানেজ করতে হবে বলে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত টাকা লেনদেন ও পরবর্তী দাবির বিষয়ে একটি কল রেকর্ড হাতে পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভূমি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অভিযোগ

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নেওয়াজ রনি দাবি করেন, বগুড়ার পুলিশ সুপারের (এসপি) নাম বলে কয়েক দফায় টাকা দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নেওয়াজ রনি ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি শহরের মালগ্রাম এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে “নিউ টেক ভেটেরিনারি” নামে একটি ওষুধ কারখানার ব্যবসা পরিচালনা করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমার কারখানার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও তারা কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে না পেয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমাকে ও বাড়ির মালিককে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে ৮০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে রাত ১২টার দিকে আইসি কামরুজ্জামানকে ৩০ হাজার টাকা এবং সঙ্গে থাকা তিন সাংবাদিককে ১০ হাজার টাকা দিলে তারা আমাদের ছেড়ে দেয়। ঘটনার দুই দিন পর আবার ফোন করে আইসি কামরুজ্জামান বলেন, এসপিকে ম্যানেজ করতে হবে। এরপর বাড়ির মালিকের বাসায় গিয়েও ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।”

এ বিষয়ে স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) কামরুজ্জামান বলেন, “অভিযোগটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। টাকা চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।” কল রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিষয়টি নিয়ে গত ৮ মে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা আবু সায়েম বলেন, “বিষয়টি আমার কানে এসেছে। তবে আমার নাম বলে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”