ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর আহ্বান

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৫ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর (LMICs) জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এর কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘International Conference on Appropriate Technology for Healthcare in LMICs (ICATH-LMIC 2026)’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, BIBEAT Ltd. এবং রিলেভ্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

আরও পড়ুন: জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সীমিত সম্পদ নিয়েও যুগোপযোগী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা রাখেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও উপযোগী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব উদ্ভাবন দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: সিজেডএম ও এআইইউ মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানবকল্যাণে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রয়োগ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় গবেষণার মাধ্যমে টেলিমেডিসিন, ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার, নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রসার এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের উন্মুক্ত ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ. এম. সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক বি এইচ ব্রাউন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মেলনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক হাসানও একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্যখাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবায় উপযোগী প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতি-সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।