ঢাবিতে মার্কিন সংবিধান দিবস, গণতন্ত্র ও অধিকার নিয়ে আলোচনা

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন ডে’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকাস্থ আমেরিকা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক।

আরও পড়ুন: জবির ইকোনমিকস ক্যারিয়ার ক্লাবের নেতৃত্বে মাইশা-নাদিয়া

অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ, আইনের শাসন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা দুই দেশের সাংবিধানিক চর্চা বুঝতে সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন: জবির পরিবহন বাসে সিট দখল, র‌্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরু হয়েছে ‘We the People’ বাক্য দিয়ে। ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিনিধিরা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেন, যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়।

তিনি বলেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কনস্টিটিউশন ডে পালিত হয়। দিনটি দেশটির সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও জনগণের অংশগ্রহণ সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন বিষয় তুলনা করে আলোচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব নিয়ে আলোচনা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সাংবিধানিক ধারণা আরও পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন’ বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও দুই দেশের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, গবেষক এবং আইন ও বিচার অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।