মমেক হাসপাতালে কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি, তদন্ত কমিটি গঠন: বিভাগীয় কমিশনার

Sadek Ali
মো. গোলাম কিবরিয়া, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৪ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের অনেকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যায়নি। তবে ২ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস.এম হুমায়ুন কবীর। 

এ সময় তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা সত্য নয়। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মৃত্যুর যে তালিকা আছে, এর মধ‍্যে একজন বতর্মানে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আর বাকি ৪ জনের মধ‍্যে ২ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবার থেকে আমাদেরকে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর হওয়ার পরে হাসপাতালে আসছে এবং যথারীতি কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করছে। 

আরও পড়ুন: কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাকি দুইজনের যে তথ্য রয়েছে, সেটা এখনো অস্পষ্ট। কারণ ডাক্তাররা আমাদেরকে বলতে পারে নাই যে, কী কারণে তারা মারা গেছে। তবে খবরে যেটা আসছে পদদলিত হয়ে ৬ জন মারা গেছে, এটি অসত্য একটি খবর। 

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, যারা মারা গেছে তাদের ঠিকানায় খোঁজ নেন, দেখেন তাদের শরীরে আঘাতের কোন চিন্হ আছে কী-না ? 

আরও পড়ুন: সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

মূলত হাসপাতালে পদদলিত হওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, এখানে (হাসপাতালে) পদদলিত হওয়ার কোন ঘটনা ঘটে নাই। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়াহুড়ি করে নামতে গিয়ে কিছু মানুষ আহতের ঘটনা আছে। এতে কারো হালকা পাতলা হাত-পা কেটে যেতে পারে বা মাথায় ব্যাথা পেতে পারে। কিন্তু পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার কোন কারণ নাই। 

তবে, যে ৬ জন মারা গেছে বলে বলা হচ্ছে, তাদের মৃত্যুর কারণ ডাক্তাররা তাদের রিপোর্টে ভালো বলতে পারবে। তবে আমরা ফায়ার সার্ভিস, কর্তব্যরত ডাক্তার, স্টাফ সবার সঙ্গে কথা বলেছি।  

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন বলে অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিষয়টি তারা জেনেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে এতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ঘটনার তদন্ত করে যদি দেখা যায় যে, এই ঘটনায় কোন অনিয়ম বা কারো দায় রয়েছে, তাহলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ব্রিফিংয়ে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতালের ব‍্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ডিআইজি জাহিদুল হাসান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান, এসপি কামরুল হাসান এবং হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা: জাকিউল ইসলামসহ অন‍্যান‍্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, সোমবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে । হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান সদস্যসচিবের দায়িত্বে আছেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

এদিকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় মো: রমজান আলী এবং কুলছুমা বেগম নামের ২ জন স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সহকারি পরিচালক মো: মাঈন উদ্দিন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পূর্ণ ঠিকানা জানা যায়নি। 

এরপরই আগুনের সময় হুড়াহুড়ি করে নামনে গিয়ে পদদলিত হয়ে পর্যায়ক্রমে ৬ জন মারা যাওয়ার খবর রটনা হয়ে বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, হাসপাতালের দুর্ঘটনা কবলিত লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট, ময়লা ও আবর্জনায় ভরা। 

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ‍্যা পৌণে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে অল্প সময়ের মধ‍্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে বিভিন্ন তলার কিছু অংশে। 

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, নতুন ভবনের অষ্টম তলার লিফট নিংন্ত্রণ কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।