রাতে প্রকাশ হচ্ছে একাদশ ভর্তির প্রথম ধাপের ফল

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৭ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার পর প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাদের ফল দেখতে পারবেন।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, বুধবার রাত ৮টার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখতে পারবেন।

আরও পড়ুন: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, পরবর্তী কার্যক্রম যেভাবে

ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।

আরও পড়ুন: চীন-দক্ষিণ এশিয়া মেরিন কো-অপারেশন ফোরামে অংশ নিতে চীন সফরে ঢাবি উপাচার্য

আবেদন শুরু হয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অনলাইনে আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আবেদনকারীদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।

নীতিমালা অনুযায়ী, যে বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে এবং তার আগের দুই বছরের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।

অন্যদিকে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

যে হারে থাকবে কোটা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

এ ছাড়া মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ এই দুই শ্রেণির জন্য মোট ২ শতাংশ আসন রাখা হয়েছে।

তবে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে ওই আসন পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কার্যকর থাকবে।

সমান জিপিএ হলে যেভাবে মেধাক্রম

একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নম্বর সমান হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন।

কলেজে ভর্তির ফি নির্ধারণ

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে বাংলা মাধ্যমে ৩ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।

প্রাথমিক নিশ্চায়নে দিতে হবে ৩৪০ টাকা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র বা টিসি ইস্যু কিংবা নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না।

এ ছাড়া অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি অথবা এমপিওভুক্তি বাতিল করা হতে পারে।