দেশে ফের বেড়েছে লোডশেডিং, ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তিতে মানুষ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৮ অপরাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে একদিকে বাড়ছে গরম, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটিতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ ভারত থেকে আসা আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। তবে এটি দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট কম।

আরও পড়ুন: আ’লীগ নেতা হানিফের মৃত্যুদণ্ড

অন্যদিকে, একই সময়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।

বিদ্যুতের হঠাৎ এই ঘাটতির কারণ জানিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে আদানির একটি ইউনিট আবার বন্ধ হয়ে গেছে। তারা দ্রুত সেটি মেরামতের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে দেশের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে একযোগে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নতুন করে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বাদবাকি পুরোনো সমস্যাগুলো আগের মতোই রয়েছে।

আরও পড়ুন: যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ৫ ঘণ্টা পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীর উড়োজাহাজ

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বুধবার রাত ১১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াটে, যা এক দিন আগেও ছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এক দিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল সেটি বন্ধ হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া গ্যাস-সংকটের কারণে কেবল ঢাকা অঞ্চলে অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা স্বল্প সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, বিদ্যুতের এমন ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। মাঝে কয়েক সপ্তাহের জন্য লোডশেডিং কমে এলেও তা আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে চারবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে গেলেও গ্রামাঞ্চলে আবারও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং ফিরে এসেছে।