দুই আসনে নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা: সিইসি
#বাই-ইলেকশনে কম উপস্থিতির প্রবণতা, তবুও ভোটে অংশ নিচ্ছেন ভোটাররা
#ড্রোন ও কন্ট্রোল রুমে ‘সায়েন্টিফিক’ মনিটরিংয়ের দাবি ইসির
আরও পড়ুন: বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে প্রবাসী ভোটে নগণ্য সাড়া: বগুড়ায় ২৩ ও শেরপুরে মাত্র ৫ টি
#সীমান্তবর্তী শেরপুর-৩ এ বাড়তি নিরাপত্তা, বিজিবি-র্যাব মোতায়েন জোরদার
#চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফল স্থগিত—আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা
আরও পড়ুন: ৬ এপ্রিলের বৈঠকে নারী সংরক্ষিত আসনের তফসিলের সিদ্ধান্ত : রহমানেল মাছউদ
#স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত
#বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্যে অনীহা, সংসদীয় বিতর্ক থেকেও দূরে ইসি
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন এবং সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া মনিটর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভোটাররা কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল থেকে নির্বাচন পরিস্থিতি মনিটরিং শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
সিইসি বলেন, “সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি। শুরু থেকেই ইতিবাচক রিপোর্ট পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে আসছে, ভোট প্রদান করছে এবং নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে—এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।”
উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হওয়ার প্রবণতা থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কমিশন সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “সাধারণত বাই-ইলেকশনে ভোটার টার্নআউট কম থাকে। তবে এবারও মানুষ অংশ নিচ্ছে—শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কেমন হয় তা দেখা যাবে।”
নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্পন্ন করার বিষয়ে সিইসি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। সে লক্ষ্যেই সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, পুরো নির্বাচন ‘সায়েন্টিফিক মেথডে’ কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি ছাড়াও ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন আরও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, “আমরা চাই এই নির্বাচন অন্তত আগের নির্বাচনের চেয়ে খারাপ না হয়, বরং আরও ভালোভাবে সম্পন্ন হোক।”
শেরপুর-৩ আসনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী নির্ধারিত দূরত্বে অবস্থান করছে এবং বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। “আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবে, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব,” বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিদ্যমান আইন-কানুন, জারি হওয়া অধ্যাদেশ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন করণীয় নির্ধারণ করবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও সংশ্লিষ্ট বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি বলেন, বিষয়গুলো বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। পাশাপাশি সংসদীয় আলোচনার বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।





