মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে ২০০৫ সালের ঐতিহাসিক রায়
পপ সংগীত জগতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন, যিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘কিং অব পপ’ নামে। সংগীতজীবনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি জীবনের একটি বড় সময় তাকে কাটাতে হয়েছে ভয়াবহ বিতর্কের মধ্যে দিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছিল শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, যা ২০০৫ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়।
২০০৫ সালের দিকে ফ্রাঙ্ক, অ্যালডো, মারি-নিকোল ও ডমিনিক ক্যাসিও—এই চার ভাইবোন মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। তবে আদালত তাদের অভিযোগ গ্রহণ না করায় পরবর্তীতে তারা ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ নামের একটি তথ্যচিত্রে জ্যাকসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: রূপকথা নয়, এবার রহস্যে ভরা ‘ঠাকুমার ঝুলি’
লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে ভাইবোনদের হাজির করা হলে বিচারক জানান, ছয় বছর আগে হওয়া একটি আইনি মীমাংসার কারণে তারা জ্যাকসনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করতে পারবেন না। যদিও সেই সমঝোতা বাতিলের দাবিতে তারা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হন।
এর আগেই, ২০০৫ সালের ১৩ জুন শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে খালাস পান মাইকেল জ্যাকসন। মামলাটি করেছিলেন তৎকালীন ১৩ বছর বয়সী গ্যাভিন আরভিজো। অভিযোগে বলা হয়েছিল, জ্যাকসন তার মালিকানাধীন নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চে ওই কিশোরকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন।
আরও পড়ুন: মালাইকার জীবনে নতুন ‘বিশেষ মানুষ’, নিজেই জানালেন নাম
এই মামলায় জ্যাকসনের বিরুদ্ধে মোট ১০টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে চারটি ছিল নাবালককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, চারটি ছিল যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে নাবালককে মাদক সরবরাহের অভিযোগ, একটি ছিল শিশু যৌন নির্যাতনের চেষ্টা এবং অন্যটি শিশু অপহরণ, মিথ্যা কারাবন্দিত্ব ও চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।
বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন পক্ষ মাইকেল জ্যাকসনকে একজন যৌন শিকারী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। তবে খ্যাতনামা আইনজীবী থমাস মেসেরোর নেতৃত্বে আসামিপক্ষ দাবি করে, অভিযোগকারী পরিবারটির উদ্দেশ্য ছিল গায়কের কাছ থেকে অর্থ আদায়।
আসামিপক্ষ প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি তুলে ধরে এবং নিজেদের পক্ষে একাধিক সাক্ষী হাজির করে। এদের মধ্যে অভিনেতা ম্যাকলে কুলকিনসহ কয়েকজন পরিচিত মুখও ছিলেন।
আটজন নারী ও চারজন পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত জুরি প্রায় ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে সব অভিযোগে মাইকেল জ্যাকসনকে নির্দোষ ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কিং অব পপ।
আইনিভাবে খালাস পেলেও, শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত ডকুমেন্টারিগুলোর কারণে মাইকেল জ্যাকসনের নাম ঘিরে বিতর্ক ও আলোচনা আজও থেমে নেই।





