আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকাহত রুনা -সাবিনা
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার প্রয়াণে শোকাহত ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরপরই গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান রুনা লায়লা। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল। পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না।’
আরও পড়ুন: কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন
নিজেদের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন-মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’র রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব। আজ করব, কাল করব-এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।’
এদিকে, স্মৃতিচারণে সাবিনা ইয়াসমিন তুলে ধরেছেন এক অসাধারণ শিল্পীর প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে নেই ভাবতেই পারছি না। ছোটবেলা থেকেই তাকে চিনতাম। তবে সমানাসামনি তাকে দু’বার দেখার সুযোগ হয়েছিল, যা আজও আমার মনে দাগ কেটে আছে।
আরও পড়ুন: ‘নারীবাদ সমাজ ধ্বংস করছে’ মন্তব্যে ব্যাখ্যা দিলেন নোরা ফাতেহি
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কলকাতায় ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার গান শুনে তিনি এত প্রশংসা করেছিলেন যে আমি লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলাম।
ষ্টুডিওতে উপস্থিত থাকা বরেণ্য সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে কে বলেছিলেন, ‘সাবিনা ইয়াসমিন খুব ভালো গেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ওই কাজটিতে কিশোর কুমারের সঙ্গে একটি যুগল গান এবং একটি একক গান গেয়েছিলাম। হিন্দি ও বাংলা- দুই ভাষাতেই কাজ করেছি। আশা ভোঁসলের মতো এত ভালো মানুষ আমি কম দেখেছি। এত বড় শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। তার সান্নিধ্যে না এলে তা বোঝা সম্ভব নয়।
গতকাল রবিবার দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে।





