প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আশু রেড্ডি, নথি তলব
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় করা এফআইআর বাতিল চেয়ে আশু রেড্ডি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, লন্ডনপ্রবাসী সফটওয়্যার প্রকৌশলী ওয়াইভি ধর্মেন্দ্র-এর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে তার সঙ্গে আশু রেড্ডির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লোকগাথা ও ইসলামী গল্পে দুই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ
বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত অভিনেত্রী কৌশলে প্রায় ৫ কেজি স্বর্ণ, একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক আবাসিক ফ্ল্যাট নিজের নামে গ্রহণ করেন। এসব সম্পদের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ ভারতীয় রুপি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ সংক্রান্ত লেনদেনের নথি ও প্রমাণাদি ইতোমধ্যে তদন্তকারী সংস্থার কাছে দাখিল করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
ঘটনার প্রেক্ষিতে হায়দ্রাবাদ পুলিশ একটি মামলা রুজু করে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। মামলায় আশু রেড্ডির এক নিকটাত্মীয়কেও সহঅভিযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘মিনার-এ-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন রুনা লায়লা
অন্যদিকে, আশু রেড্ডি তার দায়ের করা রিট আবেদনে সকল অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে এসব ব্যয় বহন করেছেন; এতে কোনো প্রতারণা বা জবরদস্তির উপাদান নেই। বরং তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি আদালতে দাবি করেছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কথিতভাবে আশু রেড্ডিকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিতে শোনা যায়। তবে ওই অডিওর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা এখনো বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৪ মে নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে কিনা, সে বিষয়েও আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের প্রকৃতি ও আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনায় মামলাটি জটিল রূপ নিতে পারে এবং এর নিষ্পত্তিতে প্রামাণ্য দলিল ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।





