কওমি সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন ও স্বকীয়তা রক্ষার দাবি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৩ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা। আধুনিকায়নের নামে যারা পরিমার্জন করতে চায়, তারা মূলত এ শিক্ষাকে একটি সনদ সর্বস্ব শিক্ষা বানাতে  চায়। কওমি শিক্ষা থেকে হাফেজ আলেমগণের বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানে বিশাল সুযোগ রয়েছে যা অন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় নাই। দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স কওমি হাফেজ আলৈমগণের দ্বারা অর্জিত হয়।কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কওমি শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান ধারক হিসেবে কওমি মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাই কওমি সনদের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দেওনা দাওয়াতুল হক মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখবে সরকার

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের সাবেক মন্ত্রী আওলাদে রাসূল মাওলানা মাসউদ মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শিব্বির আহমদ রশিদ(কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল বাসেত খান(সিরাজগঞ্জ), মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজ‌ওয়ান রফিকী,মাওলানা আলী আজম(বি,বাড়িয়া), মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, মাওলানা দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ, এডভোকেট মতিউর রহমান ও মুফতি ইমরনুল বারী সিরাজী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী ও মুফতি নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু

সভাপতির বক্তব্যে পীর সাহেব দেওনা বলেন, কওমি শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বীকৃতি অক্ষুণ্ণ রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কওমি শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বক্তারা বলেন, নবী-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনচরিত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত। এসব বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং তা ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

কওমি শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দেশের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা সমাজের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসায় প্রদত্ত দান ও অনুদানকে আয়করমুক্ত রাখা প্রয়োজন। কারণ, এ ধরনের অনুদান জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয় এবং রাষ্ট্রের সামাজিক উন্নয়নে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। দানকারীদের উৎসাহিত করতে এ খাতে কর অব্যাহতি প্রদান যৌক্তিক ও সময়োপযোগী।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সমাজে অপসংস্কৃতির বিস্তার উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে এমন কিছু চর্চা বাড়ছে, যা আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়ছে।এজন্য অপসংস্কৃতি রোধ কল্পে এবং ইসলামী সংস্কৃতি বিস্তার করনার্থে সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি জানান।

তারা বলেন, অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং শিক্ষার মাধ্যমে সঠিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষার প্রসারের স্বার্থে সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি জানান।কেননা সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে প্রকৃতপক্ষে একমুখী সেক্যুলার শিক্ষার বিষয়ে বর্ণিত থাকার কারণে প্রতিটি শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষা নীতিতে সেক্যুলার শিক্ষার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়ে আসছে।

এছাড়াও বর্তমান ওয়াকফ আইনের ৩২,৩৩ ও ৩৪ নং ধারার কারণে ওয়াকফ প্রশাসক মুতাওয়াল্লীকে অপসারণ সহ কমিটি গঠন এবং ওয়াকফ সম্পত্তি টেক‌ওভার করতে পারে বিধায় ওয়াকফকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য উক্ত ধারাগুলো বাতিল সহ সম্পূর্ণ ওয়াকফ আইনকে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক করা,ওয়াকফ দলীলের রেজিষ্ট্রেশন খরচ, হেবার ঘোষণাপত্র দলীল রেজিষ্ট্রেশনের খরচের মতো ধার্য করা ও মুসলামানদের পারিবারিক বিষয়গুলোর জন্য স্বতন্ত্র শরীয়া আদালত প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে|