তীব্র গরমে শিশু-বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি, সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ
দেশজুড়ে তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। এ পরিস্থিতিতে তাদের সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা সুতির পোশাক পরা, দিনে একাধিকবার গোসল এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং তাপমাত্রার প্রভাবও বেশি পড়ে। ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এ সময় তাদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা জরুরি।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের বলেন, গরমে শিশুদের হিটস্ট্রোক, জ্বর, ডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শিশুরা তাদের সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে না, তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি জানান, শিশুদের নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি বা তরল খাবার দিতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ঘরে তৈরি ফলের রস এক্ষেত্রে উপকারী। পাশাপাশি বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না রাখাই নিরাপদ। প্রয়োজনে বাইরে গেলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক, ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা উচিত।
আরও পড়ুন: দেশে বাড়ছে বাতের রোগী, চিকিৎসা ব্যয়ে দারিদ্র্যের ঝুঁকি
খাবারের বিষয়ে তিনি বলেন, তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, পেঁপে ও কলার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক। এছাড়া ভাত, ডাল, শাকসবজি, মাছ ও হালকা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ানো ভালো। টক দই হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর সতেজ রাখে।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, গরমে ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ে। এ সময় বাইরের খাবার, বিশেষ করে ফুটপাতের শরবত, ফুচকা-চটপটি ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ এসব খাবারে জীবাণুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। খাবার যেন তাজা ও পরিষ্কার থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা হাসপাতালে আসা মানুষদের এসব বিষয়ে সচেতন করতে পারেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা ও পানিশূন্যতা রোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বেশি করে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলতে হবে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। একইসঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।





