ঢাকা মেডিকেল কলেজে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন: পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম স্যার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলো এমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন, যেখানে ব্রেইন-ডেড (Brain Dead) বা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস, কর্নিয়া ইত্যাদি এইভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক অঙ্গ জীবিত দাতার কাছ থেকে নেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৮৪
বাংলাদেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ সীমিত। ২০২৩ সালে প্রথম ক্যাডাভেরিক কিডনি প্রতিস্থাপন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে ব্রেইন-ডেড রোগীর শরীর থেকে দুইজন রোগীর জন্য কিডনি নেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়মিত বা প্রতিষ্ঠিত কর্মসূচি এখনও গড়ে ওঠেনি।
ডা. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, সচেতনতার অভাব, হাসপাতালের সীমিত অবকাঠামো, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থার অভাব।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৭১
তবে নতুন মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫ দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ডা. রফিকুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইমোশনাল ডোনার এবং জাতীয় সোয়াপ রেজিস্ট্রি চালু হলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা হবে। নতুন আইন কঠোর নৈতিক সুরক্ষা বজায় রেখে অঙ্গদানের প্রচলিত বাধাগুলো দূর করবে।”
এভাবে বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচি বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং শেষ পর্যায়ের অঙ্গ বিকলতায় ভোগা রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।





