পৃথিবী বদলে দিতে পারে তনিমার গবেষণা, বলছে সায়েন্টিফিক আমেরিকান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:১৩ পূর্বাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিমকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ২৮ তরুণ বিজ্ঞানীর একজন হিসেবে নির্বাচিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী Scientific American। সাময়িকীটির জুলাই-আগস্ট সংখ্যার ‘The Future of Science’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজনে স্থান পাওয়া বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁদের গবেষণা পৃথিবীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের Wayne State University-তে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত তনিমা তাসনিম। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল (অতিমহাকায় কৃষ্ণগহ্বর)। বিগ ব্যাংয়ের পর কীভাবে কৃষ্ণগহ্বরগুলো বিশাল আকার ধারণ করেছে এবং গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তনে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে—এসব বিষয় নিয়েই তাঁর গবেষণা।

আরও পড়ুন: আরশোলাদের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার, দাবি মেনে নেওয়ার দাবি সিজেপির

ঢাকার বাড্ডায় বেড়ে ওঠা তনিমা ছোটবেলায় লোডশেডিংয়ের সময় আকাশভরা তারা দেখতে ভালোবাসতেন। মায়ের কাছে গ্রহ-নক্ষত্রের গল্প শুনতে শুনতেই তাঁর মনে জন্ম নেয় মহাকাশ নিয়ে জানার আগ্রহ। একসময় নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরে সেই স্বপ্ন তাঁকে নিয়ে যায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণায়।

তনিমা তাসনিম এর আগে ২০২০ সালে Science News-এর ‘Outstanding 10 Scientists’ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। এছাড়া The Astrophysical Journal-এর Year in Review-এ তাঁর গবেষণাপত্র সবচেয়ে বেশি পাঠিত ও ডাউনলোড হওয়া গবেষণাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের University of Cambridge, যুক্তরাষ্ট্রের Haverford College এবং Yale University-তে অধ্যয়ন করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ক্লডিয়া মেগান উরির তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এছাড়া নাসা (NASA) এবং সার্ন (CERN)-এর মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা ও গবেষণা—দুই দায়িত্বই সমানভাবে পালন করছেন তনিমা। তাঁর ভাষায়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকায় শিক্ষকতা ও গবেষণা—দুটোই তাঁর সমান প্রিয়।

দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করছেন তিনি। তাঁর প্রথম পিএইচডি শিক্ষার্থী একজন বাংলাদেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংগঠন Women in STEM (WiSTEM)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তনিমার শৈশব কেটেছে বই পড়ে, ছবি এঁকে এবং গান শিখে। সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায়, হুমায়ূন আহমেদ, হ্যারি পটার, লর্ড অব দ্য রিংস—বিভিন্ন ধরনের বই ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। এখনো প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস বজায় রেখেছেন তিনি।

নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তনিমা হেসে বলেন, "এখনো আশা ছাড়িনি।"সূত্র: প্রথম আলো