যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন মামদানি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫১ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৭ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে তিনি এই শপথ নেন।

এই শপথের মধ্য দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা শহরটির বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

শপথ গ্রহণের জন্য মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনটি। এই স্টেশনটি তার নান্দনিক স্থাপত্য ও অলংকৃত সিলিংয়ের জন্য পরিচিত। মামদানির ট্রানজিশন টিম জানায়, এটি নিউ ইয়র্কের সেই শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক, যারা প্রতিদিন শহরটিকে সচল রাখে।

মধ্যরাতের এই ঘরোয়া শপথ অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ একটি বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০২৬-কে প্রথম স্বাগত জানাল যেসব দেশ

উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানি খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে তার পরিবার নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। তিনি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানির সামনে রয়েছে একদিকে ব্যাপক জনসমর্থন, অন্যদিকে বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সাবওয়ে ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা দূর করার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো তার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে দিকে শুধু নিউ ইয়র্কবাসী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনও গভীরভাবে নজর রাখছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শহরের সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি কতটা সমন্বয় সাধন করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।