রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু আইসিজেতে

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:০২ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালতে সোমবার থেকে ঐতিহাসিক মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়।

শুনানির প্রথম দিনে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাউদা জালো অভিযোগ করেন, মিয়ানমার রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতা ছিল সংগঠিত, পরিকল্পিত এবং একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।”

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

জালো আরও বলেন, গাম্বিয়া একটি দুর্বল ও নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত “সবচেয়ে নৃশংস ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের” প্রমাণ পর্যালোচনা করেছে। রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে ভয়াবহ নির্যাতন, বৈষম্য ও অমানবিক প্রচারণার শিকার হয়ে আসছে, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেছে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পরিচালিত গণহত্যায়।

তার বক্তব্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করাই ছিল সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘নৈতিক দায়িত্ববোধ’ থেকেই গাম্বিয়া এই মামলা করেছে বলে জানান জালো।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিজেতে এই শুনানি টানা তিন সপ্তাহ চলবে। এ সময় গাম্বিয়ার অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে মিয়ানমার। এছাড়া আদালত রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীসহ সাক্ষীদের বক্তব্য শোনার জন্য তিন দিন নির্ধারণ করেছে, যদিও এসব অধিবেশন জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত ব্যক্তিগত অপরাধীদের শাস্তি দিতে না পারলেও রাষ্ট্রীয় দায় ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে এর রায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।