করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩২ পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩২ পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮১ জন, আর আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। করাচির ইতিহাসে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গুল প্লাজা করাচির সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলোর একটি। ১৯৮০ সালে নির্মিত চারতলা এই মার্কেট ভবনটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। এখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টির বেশি দোকান রয়েছে, যার অধিকাংশই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গুল প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে এত বেশি হতাহত ও নিখোঁজের জন্য গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে

করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি ফটক থাকলেও চলাচলের জন্য মাত্র দুটি ব্যবহার করা হতো। বাকি সব ফটক সবসময় বন্ধ থাকত এবং অগ্নিকাণ্ডের সময়ও সেগুলো খোলা হয়নি। এতে শত শত মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। এছাড়া ভবনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোও অকার্যকর ছিল।

করাচি পুলিশের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক ডা. সুমাইয়া সাঈদ জানান, নিহত ও আহত সবাইকে করাচির সিভিক হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিখোঁজ ও নিহতদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা দিতে বলা হয়েছে। নিখোঁজ ৮১ জনের মধ্যে ৭৪ জনের নাম ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।

ডা. সুমাইয়া সতর্ক করে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রথম তলার উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

করাচি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিন্ধ প্রদেশের রাজধানী এবং দেশটির প্রধান বন্দরনগরী। পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই করাচি বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

এ ঘটনায় করাচির গভর্নর কামরান তেসোরি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।