৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, ৭ দিনের সরকারি ছুটি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন তথ্য ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম রোববার (১ মার্চ) এ খবর নিশ্চিতের কথা জানায়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা আটক

গত শনিবার সকালে তার প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এরপর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির নিহত হওয়ার কথা জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই দাবি করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।

প্রথমে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর স্বীকার না করলেও পরে রোববার সকালে তেহরান থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়।

আরও পড়ুন: ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধন প্ল্যান্টে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রাজনৈতিক প্রভাব

ইরানের শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনির প্রভাব সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিস্তৃত ছিল। নীতিনির্ধারণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার নির্দেশনা ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকা।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তৎকালীন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ওই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি পরে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।