দাবি আদায়ে শনিবার লংমার্চ করবে ১১ দলীয় জোট

Sanchoy Biswas
এসআই শফিক
প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৭ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • ৭টায় ঢাকায় উদ্বোধনী সমাবেশ, ৮টায় চট্টগ্রামের লালদীঘি উদ্দেশে যাত্রা
  • ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে লংমার্চ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি
  • লংমার্চে ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে, গাড়িতে থাকবে স্টিকার ও নম্বর
  • চট্টগ্রামমুখী ১১ দলের লংমার্চে থাকবে ১৫০০ গাড়ি: গোলাম পরওয়ার
  • ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বান

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, জ্বালানি ও সার সংকট দূর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করার দাবিতে আগামী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় জোট। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচি সফল করতে জোটের শরিক ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)সহ অন্যান্য শরিকরা পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। একইসঙ্গে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

জানা গেছে, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু হওয়া লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হবে ঢাকা-সিলেট অভিমুখী লংমার্চের মধ্য দিয়ে। লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো। নেতাদের দাবি, লংমার্চ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতেই পথে নেমেছে ১১ দলীয় জোট।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে শ্রমিকের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

লংমার্চের বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করেছি। এর প্রতিক্রিয়া কী? প্রস্তুতি কী? সাফল্যের সম্ভাবনা, ঝুঁকি—সামগ্রিক বিশ্লেষণ করে আমরা যেটা পেয়েছি, বিপুল পরিমাণ জনগণ এতে অংশগ্রহণ করবে। পাবলিক একেবারে বিস্ফোরণমুখী একটা পরিস্থিতিতে আছে। কারণ, তার তো সমস্যা হলো মূল জায়গায়। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছি। এইটা একটা মাঝারি টাইপের প্রোগ্রাম। এটা নট সফট, নট হার্ড। এটা একটা ব্যালান্সড, পাবলিক ওরিয়েন্টেড, জনসম্পৃক্ত জনমত গঠনের কর্মসূচি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জনগণের দাবিগুলো উত্থাপন করার জন্য এই প্রোগ্রামটা নিয়েছি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অথবা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে লংমার্চ করতে চাইনি। সরকার এই পর্যায়ে আমাদেরকে নিয়ে এসেছে। এবং জনগণের যে ৭০ শতাংশ রায়, সেটা যেমন ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে সময় মানুষ একটা ম্যান্ডেট দিয়েছিল। মূলত জনগণের রায় যখন বাস্তবায়ন না হয়, তখন রাজনৈতিক দল, জনগণ সবাই মিলে সেটা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লাগে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, মানুষ রাস্তায় নামবে। তাদের প্রয়োজনে যে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে, তারাও যদি দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে, তাহলে হরতাল-অবরোধ—এই ধরনের যে সংস্কৃতিটা ছিল, বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের এই দ্বিদলীয় জায়গায়, সেটা থেকে বের হয়ে আমরা নতুন সংস্কৃতিতে এই দাবিটা সরকারকে মানাতে বাধ্য করতে পারব। তবে আন্দোলনের ধরন নিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বিরোধী দল। নেতারা জানান, অতীতের মতো জ্বালাও-পোড়াও কিংবা ভাঙচুরের রাজনীতিতে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই দাবি আদায়ই তাদের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: লং মার্চের সম্ভাব্য পথসভাগুলোর স্থান জানালেন জামায়াতের সেক্রেটারি

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় এক হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চের পরিকল্পনা করা হলেও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে দেড় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শনিবারের লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকায় উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সমাবেশ চলার পর গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। তবে সময় সাশ্রয়ের জন্য সব পথসভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না। পথে একটি অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল পরবর্তী সমাবেশস্থলে আগে পৌঁছে বক্তব্য দেবে। পরে মূল গাড়িবহর ও শীর্ষ নেতারা সেখানে পৌঁছাবেন।

যানজট বা যান্ত্রিক কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা বা মাগরিবের মধ্যে গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। লালদীঘি ময়দানে ১১ দলের নেতাদের অংশগ্রহণে জনসভা হবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রতিটি গাড়িতে স্টিকার ও নম্বর থাকবে। বহরে শীর্ষ নেতাদের গাড়ি, নিরাপত্তা দল, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, আইটি ও মিডিয়া টিমের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাড়িবহরের বিভিন্ন অংশের দায়িত্বে পৃথক দায়িত্বশীল থাকবেন। লংমার্চে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পথে গাড়ি থেকে নামবেন না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পথসভাগুলোতে স্থানীয়ভাবে ১১ দলের নেতাকর্মীরা জনসমাগম নিশ্চিত করবেন। অংশগ্রহণকারীদের সারাদিনের যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। লংমার্চ শুরুর পর নতুন কোনো গাড়ি বহরের মাঝখানে যুক্ত হতে পারবে না। অংশ নিতে চাইলে বহরের একেবারে শেষ প্রান্তে যুক্ত হতে হবে বলে জানান গোলাম পরওয়ার। সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এটি সরকার পতনের কোনো আন্দোলন নয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসনসহ ঘোষিত ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতন্ত্রচর্চার অংশ। তাই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা। পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১১ দলের নেতারা সাক্ষাৎ করে লংমার্চের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে সাধারণ মানুষকে দাঁড়িয়ে লংমার্চের গাড়িবহর ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার। চট্টগ্রামের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, লালদীঘি ময়দানের জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরের ১১ দলের নেতারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশবাসীর কাছে কর্মসূচির সফলতা কামনায় দোয়া ও সহযোগিতা চান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ পথের এ কর্মসূচি কাভার করতে সাংবাদিকরা সময় ও শ্রম দিচ্ছেন। ১১ দলের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।