ট্রাম্পের ভাষণের পরই ইসরায়েলে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জাতির উদ্দেশে ভাষণের পরপরই নতুন করে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
ইসরায়েল-এর সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা প্রতিহত করতে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ৩৫ দেশকে নিয়ে বৈঠক আজ
তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে রয়েছে।
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা “অসাধারণ কাজ” করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে দেশটির হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
এছাড়া ভাষণে তিনি নিকোলাস মাদুরো-কে আটকের ঘটনায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এতে বৈশ্বিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি-কে হত্যার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাকে “বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী” হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি “সফল বিনিয়োগ” হিসেবে বিবেচিত হবে।





