কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ন, ০৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৫ অপরাহ্ন, ০৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রয়র্টাস

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে সর্বশেষ এ হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি হামলা, নিহত অন্তত ৫

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার এক পর্যায়ে কেশম দ্বীপ ও সিরি দ্বীপে তাদের যোগাযোগ ও নজরদারি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়। পরে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন: সুদানে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান

বাহরাইন ও কুয়েত সরকার হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। হামলার পর উভয় দেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এপি নিউজ

এদিকে আইআরজিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হবে। প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এমন হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।