পানিতে হাত দিলে হাত কেটে ফেলব: পাকিস্তানি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:২৪ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে নিজেদের অংশের পানি পুরোপুরি ব্যবহারের পরিকল্পনার ঘোষণার পর পাকিস্তানের এক মন্ত্রী কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই এ মন্তব্য করেন। এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি. আর. পাতিল জানিয়েছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সব পানি পুরোপুরি ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন এবং পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দিতে চান না। পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। পানির অধিকার খর্ব করা হলে এর ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে এবং পাকিস্তান নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

মুসাদিক মালিক বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী উজানের দেশ ইচ্ছামতো ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি এখনও বিদ্যমান।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে ‘লুজার’ বললেন জো বাইডেন

তিনি জানান, বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও উত্থাপন করা হবে, যাতে নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর পানির অধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের বিষয়টি বিবেচনায় আসে।

একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, সিন্ধু চুক্তি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য ‘লাইফলাইন’ এবং এটি একটি ‘রেড লাইন’

অন্যদিকে ভারত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

নয়াদিল্লির দাবি, পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংসে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় পানি চুক্তিগুলোর একটি। কয়েক দশক ধরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও এই চুক্তি কার্যকর ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।