শাইখ সিরাজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন বাউফলের সাংবাদিক মিলন

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:২২ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৭ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কর্মরত সাংবাদিক ও বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক জি এম মশিউর রহমান মিলনের একটি মৌলিক ভিডিও প্রতিবেদনে ‘মিথ্যা’ কপিরাইট দাবি করায় চ্যানেল আই-এর প্রকাশক শাইখ সিরাজকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সাংবাদিক মিলনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশটি পাঠান।

নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, জি এম মশিউর রহমান মিলন (যিনি দৈনিক খবরের কাগজ ও ৭১ টিভির বাউফল প্রতিনিধি এবং বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক) গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন সরাসরি সম্প্রচার করেন। ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ, সাংবাদিককে হাতে নাতে ধরলো ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবার’ শিরোনামের ওই ভিডিওটি তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ধারণ ও প্রচার করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ‘প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা দোসররা জাতির প্রত্যাশা পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে’

প্রকাশের পর ভিডিওটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরি করে। তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটিতে প্রায় ৮১৫টি লাইক, ২৭৯টি মন্তব্য এবং ২৬৭টি শেয়ার হয়েছিল, যা এর বিশাল প্রচারের প্রমাণ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিওটি প্রকাশের কয়েকদিন পর, অর্থাৎ ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ ফেসবুকের ‘রাইটস ম্যানেজার’ সিস্টেম ব্যবহার করে ওই ভিডিওটির ওপর মালিকানা দাবি করে। চ্যানেল আই দাবি করে যে, ভিডিওটির একটি বড় অংশ (০০:৩৩ থেকে ০৬:০৩ মিনিট পর্যন্ত) তাদের নিজস্ব। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে ‘ব্লক’ বা বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন: জিডিজেএফ-এর নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, চ্যানেল আই-এর মতো একটি স্বনামধন্য মিডিয়া হাউস কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন কর্মরত সাংবাদিকের মৌলিক কাজের ওপর এমন ভিত্তিহীন দাবি করে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এর ফলে সাংবাদিক মিলন তার সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি এবং ফেসবুক থেকে সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা তার পেশাগত সুনাম ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শাইখ সিরাজ তথা চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষের কাছে এই নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে ওই ভিত্তিহীন কপিরাইট দাবি প্রত্যাহার করে ভিডিওটি পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা করতে হবে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মানহানিকর ঘটনার জন্য সাংবাদিক মিলনের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং পেশাগত সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা প্রদান করতে হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে প্রচলিত কপিরাইট আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং মানহানি আইনের অধীনে শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিক মিলন তার পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতেও প্রস্তুত বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।