ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে কৃষিজমির একটি বড় অংশ দখলে নিলো চীনা সেনাবাহিনী

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৯ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ‘নহ্’ উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের অভিযোগ, গত ছয় বছরে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকার অঞ্চল এবং কৃষিজমির একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর সভাপতি কেরু চাদের একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন।

আরও পড়ুন: পানিতে হাত দিলে হাত কেটে ফেলব: পাকিস্তানি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

স্মারকলিপিতে কেরু চাদের উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগেও তাদের পূর্বপুরুষদের যেসব জমিতে তারা অবাধে যাতায়াত করতেন, গবাদি পশু চরাতেন এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করতেন—সেসব শিকার ও চারণভূমি এখন চীনা সেনার দখলে চলে গেছে। এর ফলে তারা দিন দিন তাদের মাতৃভূমি হারাচ্ছেন। সংগঠনটির দাবি, আপার সুবানসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অধীনে থাকা অন্তত পাঁচটি কৌশলগত স্থানে বেইজিং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের আধিপত্য বাড়াচ্ছে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব এলাকা তাদের ঐতিহ্যগত নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেগুলো এখন চীনা সেনারা নিজেদের কবজায় নিয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীন তাদের তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছে। অনুপ্রবেশের শিকার প্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতা অঞ্চলের পানিয়ার, মারনাফে অঞ্চলের মারপান, পোত্রাং লেক ও তিনদিংতাং। স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকাগুলো তাকসিং সদরের খুব কাছাকাছি এবং এর মধ্যে কয়েকটি স্থান তাদের পবিত্র তীর্থভূমি হিসেবেও গণ্য হয়। এছাড়া ভারতীয় সীমানার ভেতরে ঢুকে চীনা বাহিনী রাস্তাঘাট এবং স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প তৈরি করেছে বলেও স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা প্রকাশ করে এনডব্লিউএস সভাপতি বলেন, তারা সেনাবাহিনীকে সন্দেহ করেন না এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা পিএলএর আগ্রাসনের গতি ও উদ্দেশ্য এতটাই ভয়াবহ যে, কেবল বর্তমান প্রচেষ্টা দিয়ে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নাচোর বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, যেহেতু এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সরকারি তদন্ত ও যাচাইকরণ প্রয়োজন। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার গাম্বো তাসো বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।