গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১৪

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২২ পূর্বাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারান। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এবং আল-আওদা হাসপাতালের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইনগত প্রক্রিয়ায় বিবেচনায়: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি জানাজার শোভাযাত্রা শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালায়। নিহতরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে এতে বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ মেক্সিকোয় ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

একই দিনে গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছে ইসরাইলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও মৃত্যু হয়েছে।

গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চলছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত মাসে ৪০টির বেশি হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেটজ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।