ইয়েমেনে সৌদি আরবের ব্যাপক হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর হুথিরা রিয়াদকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান অপসারিত
হুথিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হোদেইদায় হামলার মাধ্যমে সৌদি আরব সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে। এর মূল্য রিয়াদকে দিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “হোদেইদায় হামলার মাধ্যমে সৌদি শাসকগোষ্ঠী ‘উত্তেজনার জবাবে আরও উত্তেজনা’ নীতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।”
আরও পড়ুন: লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের প্রমাণ
হুথি-সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, হামলায় টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া কামারান দ্বীপেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অন্তত এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানায়, হোদেইদা বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বন্দরে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হোদেইদা বন্দর হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়েই ওই অঞ্চলে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ও মানবিক সহায়তার পণ্য প্রবেশ করে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে পরিস্থিতির অবনতির জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া’। হুথিরা এ ধরনের হামলা অব্যাহত রাখলে সৌদি জোট প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
এর আগে বুধবার হুথিরা দাবি করে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একাধিক তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই জাহাজগুলো ঘোষিত নৌ অবরোধ অমান্য করেছিল।
২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এর এক সপ্তাহ আগে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাব হিসেবেই এই অবরোধ আরোপ করা হয় বলে জানায় তারা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ওই বিমানবন্দর হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি তখন বলেছিলেন, এই হামলার মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক উত্তেজনা প্রশমন পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের পর এটিই ছিল দীর্ঘতম শান্তিপূর্ণ সময়।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্য আরও বিঘ্নিত হতে পারে। এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলও উত্তেজনার কারণে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তবে শুক্রবার হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম দাবি করেন, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি অবরোধ করেনি। তার ভাষ্য, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধের জবাব হিসেবে শুধুমাত্র সৌদি-সংশ্লিষ্ট নৌপরিবহনকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।





