২২ জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন

৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনেও থামেনি আন্দোলন, বন্ধ করা হয় ৪ টিভির সম্প্রচার

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪১ অপরাহ্ন, ২২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৪ সালের ২২ জুলাই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। টানা রক্তক্ষয়ী সংঘাত, দেশজুড়ে কারফিউ এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার মধ্যে তৎকালীন সরকার সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে ততক্ষণে আন্দোলনের দাবি কোটা সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও গণআন্দোলনের রূপ নেয়।

সেদিন দেশজুড়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো কঠোর কারফিউ কার্যকর ছিল। একই সঙ্গে চারদিন ধরে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা ও অচলাবস্থার মধ্যে সরকার হাইকোর্টের রায়ের আলোকে সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে কোটা সংস্কার ইস্যুতে একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠের পরিস্থিতিতে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েনি।

আরও পড়ুন: একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্প

এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। আন্দোলন ঘিরে প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত আরও পাঁচজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী ব্লক রেইড পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীসহ প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন: কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয় তলায় উঠলেন প্রধানমন্ত্রী

ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় তথ্যের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে টেলিভিশন। এমন পরিস্থিতিতে ২২ জুলাই দুপুর ২টার সংবাদ প্রচারের আগে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য বাংলাভিশন, এনটিভি, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর এবং দেশ টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে সে সময় তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

কারফিউর কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও আন্দোলনের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অলিগলি ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। একই দিনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

পরবর্তীতে জুলাইয়ের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়। ২২ জুলাইকে অনেকেই এমন একটি দিন হিসেবে মূল্যায়ন করেন, যেদিন কোটা সংস্কারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেনি; বরং আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে প্রাণহানি, গ্রেপ্তার, কারফিউ, তথ্যপ্রবাহের সংকট এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি।