বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে গাজায় স্পেনের প্রতি সমর্থনের জোয়ার

Sanchoy Biswas
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৮ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মহারণকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাতেও। তবে গাজার অনেক ফুটবল সমর্থকের সমর্থন ঝুঁকেছে স্পেনের দিকে, যার পেছনে দেশটির ফিলিস্তিনপন্থী রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, গাজায় মানবিক সংকট মোকাবিলা, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

এ ছাড়া স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচও গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। গাজার অনেক বাসিন্দার কাছে এসব পদক্ষেপ কেবল ক্রীড়াঙ্গনের নয়, বরং মানবিক সংহতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল ‘গাজা আল ইরাদা (গাজা ডিটারমিনেশন)’-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ‘পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক।’

আরও পড়ুন: ইয়ামেলের জীবনে ১৯ এর অবিশ্বাস্য মিল

তিনি বলেন, যারা যুদ্ধে শরীরের অঙ্গ হারিয়েছেন, তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতে চান। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের কারণে গাজায় স্বাভাবিক ক্রীড়া পরিবেশ প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানির অভাব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে অনেক সময় জেনারেটরও চালানো সম্ভব হয় না।

তবুও ফুটবলের আনন্দ ধরে রাখতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমানে এটিই গাজা উপত্যকার অন্যতম সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ্বকাপের আবহ তুলে ধরতে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দলের মধ্যে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচগুলোতে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়।

আদনান আল আফিফি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ ও ইতিবাচকতায় ভরা। স্পেন জাতীয় দলের প্রতি আমাদের সমর্থনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রকাশ।’

ফিলিস্তিনি সমর্থক আহমেদ আল বোজম বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে। কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে একটি বার্তা পৌঁছে দিলে জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা জানাই।’

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।