শান্তি আলোচনার আশায় কমল তেলের দাম

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও শান্তি আলোচনা ফের শুরুর সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বুধবার দাম বাড়ার পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর কিছুটা কমে আসে।

বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০৩টা ৫১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১১৪ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩৩ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে আসে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

এর আগে বুধবার ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। *ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি পাঠিয়েছেন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: সুদানের দারফুরে বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত ১০০

নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেন, শান্তি আলোচনা আবার শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ বাড়ছে। তবে দাম কমার পরিমাণ এখনো সীমিত।

এর পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি এবং ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দিকে যাওয়ার সময় ধ্বংস করা হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, বুধবার হুথিরা এডেন বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে।

এর আগের দিন হুথিরা দাবি করেছিল, তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার এ দাবি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতার ওই স্থাপনায় হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবের বিষয়বস্তুকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এগুলো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর্যায়েও পৌঁছায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার জানিয়েছেন, তেহরান এখনো কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। দেশটির সাত দিনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তা সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে রাশিয়ায় অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের উৎপাদন বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও তেলের বাজারে দরপতনে ভূমিকা রেখেছে।

জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবর রিয়াজান তেল শোধনাগারে হামলার পর রাশিয়ার তেল পরিশোধন অবকাঠামোয় নতুন কোনো হামলার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে দেশটির শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম গত সপ্তাহে দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিশোধন কার্যক্রম বাড়লে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উৎপাদনও প্রায় একই পরিমাণে বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক উৎপাদন হ্রাসের কারণে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ৮৪ লাখ ব্যারেলে নেমেছিল, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে উৎপাদন বাড়লেই যে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির মজুত থেকে ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা এ সময়ে ১৫ হাজার ব্যারেল মজুত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের মজুত বেড়েছে ৩৯ লাখ ব্যারেল। অথচ বিশ্লেষকেরা পেট্রলের মজুত ৯ লাখ ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করেছিলেন।