প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও স্পষ্ট জয়ী হিসেবে উঠে আসেনি কোনো রাজনৈতিক জোট। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট এবং বিরোধী পক্ষ—দুই দলই।

বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত পাঁচ মিলিয়নের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮।

আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার আশায় কমল তেলের দাম

মঙ্গলবারের ভোটের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর যৌথ তালিকা ও রা’আম মিলে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠনের প্রশ্নে স্পষ্ট সমাধান মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন: স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৬৮, আহত ৮০

বিশেষ ব্যালটে বদলাতে পারে আসনের হিসাব

এখনো পাঁচ লাখের বেশি বিশেষ দ্বৈত-খামের ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোট দিয়েছেন সেনাসদস্য, কূটনীতিকসহ নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করে ভোট দেওয়া ব্যক্তিরা। এই ভোট গণনার পর বিভিন্ন দলের আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। গাজায় যুদ্ধ এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকার কারণে ভোটটিকে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের ওপর এক ধরনের গণরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েননি। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যাক—এমন পরিস্থিতি এড়াতে সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলে জোট সরকার গঠনই প্রচলিত রীতি। দেশটির ইতিহাসে কোনো একক দল এককভাবে সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট নিয়ে অনড় দুই পক্ষ

নির্বাচনের আগে আইজেনকট আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। নেতানিয়াহুও একই ধরনের সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট বলেন, তাঁর বিরোধী জোট এখন ইসরায়েলে পরিবর্তন আনা এবং একটি জায়নবাদী ঐক্য সরকার প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর গঠিত সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। তাঁর বক্তব্যে সরকার ও দায়িত্ব এড়িয়ে চলার অভিযোগে অভিযুক্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোরও সমালোচনা করা হয়।

আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে।

দলটির এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চায়—এমন আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।

লিকুদ পার্টি আরও জানায়, আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে কথিত অনিয়মের বিষয়ে শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পুলিশ, শিন বেত নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে, আরবদের প্রধান রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট বলেছে, প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ নেতানিয়াহু ও তাঁর জোটকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে জোটটি।

জয়েন্ট লিস্টের ভাষ্য, ভোটাররা উসকানি ও ভয়ভীতির জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছেন। জোটটি বাড়িঘর ধ্বংস, বর্ণবাদ ও যুদ্ধাপরাধের নীতির বিরোধিতা করে এবং নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করে।

জোটটি আরও বলেছে, আরব নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক ঐক্য ও কার্যকর শক্তি গড়ে তোলার দাবি থেকেই তাদের প্রতি সমর্থন এসেছে। নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং তার পুনরাগমন ঠেকাতে কাজ করার অঙ্গীকারও করেছে তারা।

জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে তাঁদের জোট। তবে সেই সরকারের অংশ হবে না তারা।

 সূত্র: আলজাজিরা