১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে হাসানুল হক ইনুর আপিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।
আরও পড়ুন: মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু
এর আগে একই মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আপিল করা হয়। ফলে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে আপিল বিভাগে দুই পক্ষের আবেদন রয়েছে।
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার নির্দেশ থাকায় মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়ায় ১০ বছর।
আরও পড়ুন: জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে: গাজী নজরুলের বিষয়ে আদালত
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন, রাজনৈতিক কারণে নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিষয় রয়েছে। কয়েকটি অভিযোগে তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
অন্যদিকে, ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।
যেসব অভিযোগে সাজা হয়েছে
ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় ইনুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারীদের আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ, ১৪-দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্টতা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ।
যেসব অভিযোগে খালাস
ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত না হওয়া পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ১৪-দলীয় জোটের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।
এখন ইনুর খালাস চেয়ে করা আপিল এবং সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা আপিলের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে।





