আজ মহান শিক্ষা দিবস

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৯ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। শিক্ষার অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি পালিত হয়। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের স্মারক হিসেবে ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবসের মর্যাদা পায়।

১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পাকিস্তান সরকার শিক্ষাসচিব এস এম শরীফকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। পরের বছর ২৬ আগস্ট কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়।

আরও পড়ুন: ৫ অভ্যাস যেকোনো বয়সে বদলে দিতে পারে শরীর ও স্বাস্থ্য

প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করে। এতে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষার বিরোধিতা এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছর করার মতো সুপারিশও ছিল।

শিক্ষার্থীরা এসব প্রস্তাবকে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা এবং সমাজে বৈষম্য বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখেন। এর প্রতিবাদে ধীরে ধীরে আন্দোলন জোরালো হতে থাকে।

আরও পড়ুন: কমলার উচ্ছিষ্ট থেকে যেভাবে তৈরি হলো ঘন বন

১৯৬২ সালের আগস্ট থেকে শরীফ কমিশনের সুপারিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হতে শুরু করে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং ও বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন। আন্দোলন দমনে পুলিশ গুলি চালালে নবকুমার হাইস্কুলের ছাত্র বাবুল নিহত হন। গুলিতে বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ আহত হন। পরে ওয়াজিউল্লাহও মারা যান।

প্রাণহানির ঘটনায় ছাত্রদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। পরে সরকার শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত করলে ধীরে ধীরে আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে।

১৯৬২ সালের সেই আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা অধিকার ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর দেশে পালিত হয় মহান শিক্ষা দিবস।