অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার: যেসব চোখের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই
কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন এমনকি স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং—সবক্ষেত্রেই স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্ক্রিন টাইম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে চোখের নানা সমস্যার প্রবণতা লক্ষ্য করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন সরাসরি স্থায়ী বা অপূরণীয় চোখের ক্ষতি না করলেও অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারের কারণে চোখের আরাম, দৃষ্টিশক্তি, ঘুম এবং স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে সাধারণত যেসব চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলো তুলে ধরা হলো—
আরও পড়ুন: রাতে ঘুম ভেঙে বারবার প্রস্রাব? হতে পারে শরীরের গোপন সতর্ক সংকেত
ডিজিটাল আই স্ট্রেন (কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম)
মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে সাধারণ চোখের সমস্যাগুলোর একটি হলো ডিজিটাল আই স্ট্রেন, যা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম নামেও পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে ছোট স্ক্রিনে চোখ ফোকাস করে রাখার ফলে চোখের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে চোখে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা এবং কখনো কখনো ডাবল ভিশনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: সারাদিন সতেজ ও ক্লান্তিহীন থাকতে খাদ্যাভ্যাসে আনুন এই ৫ পরিবর্তন
ড্রাই আই সমস্যা
বর্তমানে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ড্রাই আই সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়, ফলে চোখের স্বাভাবিক অশ্রু নিঃসরণ ব্যাহত হয়। ড্রাই আইয়ের লক্ষণ হিসেবে চোখে শুষ্কতা, লালচেভাব, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পানি পড়া এবং চোখে বালির মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসা না করলে পড়াশোনা, গাড়ি চালানো এবং স্ক্রিনে কাজ করাও কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।
চোখের অস্বস্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত
স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের অস্বস্তির পাশাপাশি ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমে যায়। এর ফলে চোখের ক্লান্তি বেড়ে যায়, ঘুমাতে দেরি হয় এবং ঘুমের মান নষ্ট হতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত আলোতে ফোন ব্যবহার এবং ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।





