প্রধান উপদেষ্টা: নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:১১ পূর্বাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:১১ পূর্বাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ চার সংশোধনীতে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট, সিপিএ), আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস যে ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কারমূলক কাজ করেছেন, তার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এসব সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

আরও পড়ুন: সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই এই গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

ইইউ কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে। তিনি পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ তৈরি করবে।

জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এরই প্রতিফলন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।

পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন দিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা প্রচার চালাবে বলে তার বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে।”

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।