রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় অর্থনীতিতে মন্দাভাব, বিনিয়োগে স্থবিরতা: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৩ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়ায় নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে তিনি বলেন, প্রবাসী আয় আগের তুলনায় বেড়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর কখনও ‘রাতের ভোট’ হবে না: অধ্যাপক আলী রিয়াজ

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতিতে মন্দাভাব থাকলেও সে কারণে এডিপির আকার কমানো হয়নি। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কম হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তিনি জানান, দুর্নীতির কারণে অনেক পুরোনো প্রকল্প পরিচালককে খুঁজে পাওয়া যায়নি, নতুন পরিচালক নিয়োগে সময় লেগেছে, বহু প্রকল্প সংশোধন করতে হয়েছে এবং দরপত্রের নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এসব কারণেই এ বছর এডিপি বাস্তবায়নের হার তুলনামূলকভাবে কম।

এনইসি সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রকল্প পরিচালকদের জন্য আলাদা পুল গঠন এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদনে বাস্তবায়ন করা যাবে, এর বেশি হলে তা একনেকে পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন ডাকাতি বন্ধ করতে আগের জড়িতদের চেহারা সামনে আনতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

এডিপি ঘাটতির বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক সরকারের সময়ে যেভাবে প্রকল্পের হিড়িক থাকত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা হয়নি। যাচাই–বাছাই করেই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয় এখনও প্রকল্প প্রস্তাব পাঠাচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সামাজিক খাতে বিদেশি ঋণ নিয়ে কোনো দেশ উন্নত হয়েছে—এমন দৃষ্টান্ত নেই। অতীতে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই ছাড়াই গ্রহণ করা হলেও এখন তা দেশের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দর ও মেট্রোরেলসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকার নেবে বলে জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প নিয়েও একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের অবকাঠামো ভেঙে ফেলতেই প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপি ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা।

স্থানীয় উৎস থেকে বরাদ্দ কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি প্রকল্প সহায়তা কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শীর্ষ ১০টি বড় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। মেট্রোরেল (এমআরটি-৬, এমআরটি-১, এমআরটি-৫ উত্তরাংশ), ঢাকা–সিলেট ও হাটিকুমরুল–রংপুর চার লেন সড়ক, মাতারবাড়ী বন্দর, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দর–গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।