প্রধান উপদেষ্টার নিকট ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টার নিকট চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে হস্তান্তর করা হয়। এতে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা, এর সীমাবদ্ধতা এবং আইনগত ও কারিগরি দিকগুলোর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের সঙ্গে নাগরিকদের গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ৮টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৮টি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সশস্ত্র বাহিনীতে ১৪১ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি
কমিটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত অভিযোগ এবং নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের সাফল্যকে সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করেছে। এছাড়া, বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এতে সুপারিশ করা হয়েছে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, যা audit-driven ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা’ (two-layer transparency model) কাঠামো সম্বলিত। এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) নির্দেশিকা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের প্রশাসনিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ভোটকেন্দ্রে গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
কমিটি প্রতিবেদনে এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ ধারার সংস্কারসহ একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই সংশোধিত টেলিযোগাযোগ আইন গেজেটভূক্ত করেছে। এছাড়া কমিটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান সম্প্রসারণের প্রস্তাবও করেছে।
প্রতিবেদনটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরসম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।





