ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারদের কর্মপরিধি নির্ধারণ
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা তদারকি, সমন্বয় জোরদার এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি ঠেকাতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে (পেট্রোল পাম্প) ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত, গ্রাহকদের স্বস্তি
ট্যাগ অফিসারদের প্রধান দায়িত্বসমূহ
সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বগুলো হলো—
আরও পড়ুন: আকনুর রহমান অতিরিক্ত সচিব এপিডি নিয়োগ
* ফিলিং স্টেশনের দৈনিক প্রারম্ভিক জ্বালানি মজুদ রেকর্ডভুক্ত করা
* ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিমাপপূর্বক গ্রহণ এবং চালান/রসিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা
* ডিপ স্টিক বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তেলের পরিমাণ যাচাই করা
* ডিপো থেকে প্রাপ্ত জ্বালানির হিসাব রেজিস্টারে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা
* ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং যাচাই করে বিক্রয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা
* প্রতিদিন বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুদ পর্যালোচনা
* মেশিনের পরিমাপে কোনো গড়মিল আছে কি না তা নিয়মিত তদারকি
* অনুমোদিত মজুদ ক্ষমতা ও বাস্তব মজুদের তথ্য যাচাই
* পাম্পের আশপাশে অবৈধ ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কি না তা পরীক্ষা
* ডিপো থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা দৃশ্যমান ও স্বচ্ছ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
* প্রতিদিন অন্তত ৩ বার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা) স্টক আপডেট নিশ্চিত করা
* ডিপো থেকে তেল নেওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা
লঙ্ঘনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু না করলে পর্যায়ক্রমে—
* প্রথমবার সতর্কতা
* দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট
* তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশ
অতিরিক্ত নজরদারি
এছাড়া ট্যাগ অফিসারদের আরও যেসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—
* পাম্প খোলা রয়েছে কি না
* স্টক রেজিস্টার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না
* ডিসপ্লে বোর্ডে তথ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না
* ক্রেতাদের ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে কি না
* নির্ধারিত সীমা মেনে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে কি না
* কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি হচ্ছে কি না
* সারি (কিউ) ব্যবস্থাপনা সঠিক রয়েছে কি না
এসব তথ্য জিও-ট্যাগসহ নিয়মিত রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে।





