রোববার শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন

চার দিনের ডিসি সম্মেলনে উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:১২ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামিকাল রোববার (৩ মে) শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন হবে। এবার সম্মেলনে আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলা প্রশাসকের দেওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান জেলা প্রশাসকরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন।

গতকাল শনিবার সচিবালয়ে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ৩ মে রবিবার থেকেই শুরু হাওরের কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ

ডিসি সম্মেলনে সারা দেশ থেকে জেলা প্রশাসকরা অংশ নেন। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে এই সম্মেলনকে বিবেচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিসিদের দেওয়া ৫০টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রস্তাব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সংক্রান্ত বলে জানান অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা ৫০ প্রস্তাব: প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-১.গাজীপুর জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে শিল্পকারখানাসমূহকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তর করা। ২.ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহ পুনর্র্নিমাণ/মেরামত, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।৩.রংপুর বিভাগে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল চালু করা।৪. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ।৫.হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত পরিশোধনাগার নির্মাণ। ৬.ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টি ও পদায়ন। ৭.সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (আইসিটি), সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) এবং সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার বিজ্ঞান/গ্রন্থাগারিক) পদে নিয়োগ প্রদান। ৮.বাংলাদেশের সব দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক ঘোষণা করা। ৯.বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি ডোমেইন ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি। ১০.কওমি মাদরাসা স্থাপনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং মাদ্রাসাসমূহকে ওই নীতিমালার আওতায় আনা। ১১. সিলেট বিভাগের সব চা-বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং বিদ্যমান নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ জাতীয়করণ। ১২.সব শিশুর শেখার চাহিদা বিবেচনায় একীভূত (ইনক্লুসিভ) কারিকুলাম, সময়সূচি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন। ১৩.দেওয়ানি আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আপিল মামলা দাখিলে তামাদি মওকুফ করা। ১৪.প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জিপি, এডিশনাল জিপি ও এজিপি নিয়োগ। ১৫.স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে প্রতিটি জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে কালচারাল আর্কাইভ স্থাপন। ১৬.পর্যটন শিল্পকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে পর্যটন এলাকাগুলোতে সমন্বিত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ। ১৭. নোয়াখালী জেলায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন। ১৮.সব ধরনের অর্থছাড় ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করা। ১৯.রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নগদ অর্থ লেনদেনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে (যেমন চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিআরটিএ অফিস, পাসপোর্ট অফিস, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাড়িভাড়া ইত্যাদি) ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন। ২০.কৃষিপ্রধান জেলাগুলোতে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও খামারিদের জন্য স্বল্পসুদে বৃহৎ আকারে ঋণ সুবিধা প্রদান। ২১.মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় ভিজিএফ চাল প্রদানের পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ২২.হাওড় অঞ্চলে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন। ২৩.রপ্তানিযোগ্য পণ্যের (সবজি, আম, পান ইত্যাদি) গুণগত মান পরীক্ষার জন্য অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাব স্থাপন। ২৪.জেলা পর্যায়ে খাদ্যদ্রব্য পরীক্ষার জন্য সমন্বিত পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা। ২৫. দেশীয় বাইসাইকেল শিল্পের বিকাশে স্থানীয় শিল্পকে প্রণোদনা প্রদান। ২৬.কক্সবাজার জেলায় লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন। ২৭.সিলেট-ওসমানী বিমানবন্দর সড়কের লাক্কাতুরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। ২৮. ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করা। ২৯. টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে নগদ অর্থ বরাদ্দ প্রদান। ৩০.মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চাকরি স্থায়ীকরণ এবং বেতন-ভাতা বৃদ্ধি। ৩১. রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ঢাকা থেকে বিকেন্দ্রীকরণ করে জেলাভিত্তিক করা। ৩২.পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় বিদেশি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন। ৩৩.বিভাগীয় পর্যায়ে একটি করে আধুনিক সমন্বিত বিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন। ৩৪.জেলা পর্যায়ে গুজব ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার স্থাপন। ৩৫.পার্বত্য অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে শতভাগ বিদ্যুতায়ন। ৩৬.জেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রকল্পসমূহের জন্য অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি। ৩৭. পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও ওয়াটার প্ল্যান্ট নির্মাণ। ৩৮. পার্বত্য এলাকায় ইটভাটা বন্ধ করতে ইটের বিকল্প ব্যবহারের জন্য প্রকল্প প্রাক্কলন সংশোধন। ৩৯.জেলাভিত্তিক সমবায় সমিতির ডেটাবেজ তৈরি। ৪০.ভূমিসংক্রান্ত সব আইন একত্রিত করে একটি সংকলন প্রণয়ন। ৪১. ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ সংশোধন। ৪২.পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন। ৪৩.পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপন। ৪৪.জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ফান্ড এবং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ক্রাউড ফান্ড গঠন। ৪৫. জেলা কারাগার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ। ৪৬.দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে হোস্টেল স্থাপন এবং হোস্টেলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা। ৪৭.পরিবেশবান্ধব হলো ব্রিকস (হলো ব্লক) উৎপাদনে স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান। ৪৮.সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা ২৫ শতাংশে উন্নীত করা। ৪৯. ভরাট হয়ে যাওয়া খাসপুকুর পুনঃখনন।

আরও পড়ুন: নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা: ৭০% আসামি খালাস