জুনের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়নে উদ্যোগী সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৮ অপরাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ । 

১৪ মে বৃহস্পতিবার বেজা কর্তৃক আয়োজিত সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সোলার পিভি উইথ বিইএসএস পিপিপি প্রকল্প বিষয়ক মার্কেট সাউন্ডিং ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

আরও পড়ুন: সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হেলথ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা: পর্যটনমন্ত্রী

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, এই খাতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য সরকারের কী অবদান রয়েছে তা খুঁজে বের করতে একটি নীতি প্রণয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন’। সরকার খুব শীঘ্রই একটি বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এই খাতে লাভজনক ব্যবসা করার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং সহায়তা প্রদান করবে। মন্ত্রী স্মরণ করেন, কীভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৃহীত একটি অনুকূল নীতি পোশাক খাতের ব্যবসাকে গতি দিতে সাহায্য করেছিল। মন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং সৌরশক্তি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য সৌর খাতেও এ ধরনের একটি নীতি চালু করতে চান। সৌরবিদ্যুৎ সঞ্চয় ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী , ব্যবসার খরচ কমাতে, সঞ্চয় ক্ষমতা বাড়াতে এবং সৌরশক্তি ব্যবসাকে সহজতর করতে সরকার ফ্রেম, ফটোসেল, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার যদি আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক ও কর আরোপ করে এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশ দেয়, তবে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। রাজস্বের আগে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাঁচ বছর পর সরকার স্বাভাবিকভাবেই কর পাবে, বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনার জন্য প্রস্তাব করা হবে।

আরও পড়ুন: টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল গঠনে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

ঢাকায় সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে নেট মিটারিং পদ্ধতির অধীনে ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং অন্যান্য অনুরূপ আবাসিক এলাকার ছাদ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইজারা দিলে শুধু শহর থেকেই ১,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই উদ্যোগটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে এবং সংরক্ষিত বিদ্যুৎ শিল্পখাতে সরবরাহ করার সুযোগ করে দেবে।সরকারের বিনিয়োগমুখী উদ্যোগগুলো পোশাক খাতের মতো বাংলাদেশে সৌরশক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দা ইসলাম অমিত বলেছেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি যাত্রায় বেসরকারি খাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশকে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমদানিকৃত জ্বালানির ভূমিকা অব্যাহত থাকবে, কিন্তু আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশকে আন্তর্জাতিক মূল্য ধাক্কা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আর্থিক বোঝার ঝুঁকিতে ফেলে। সৌরশক্তি এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রকল্পগুলো বড় আকারে এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়।

সোনাগাজী প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক প্রকল্প। এটি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বেজা-র মালিকানাধীন জমি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত প্রকল্প কাঠামোটি মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করেছে: জমির মালিক ও প্রকল্প পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বেজা, ক্রেতা হিসেবে বিপিডিবি, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পিজিসিবি, নীতিগত সহায়তার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি সমন্বয়ের জন্য এসআরইডিএ এবং পিপিপি কাঠামো ও ক্রয় সহায়তার জন্য পিপিপিএ।

ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কারণে প্রকল্পটি দূরদর্শীও বটে। বাংলাদেশে সৌর ও অন্যান্য পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে গ্রিডের স্থিতিশীলতা, সর্বোচ্চ চাহিদার ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির আরও ভালো ব্যবহারের জন্য সঞ্চয় ব্যবস্থা ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই উদ্যোগটি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত পরামর্শ ও মতামতকে স্বাগত জানান। সরকারকে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও অনুমানযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।