ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিতকরণে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধার, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব খালের সীমানা চিহ্নিতকরণে পৃথক দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার অনুশাসন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।
সভায় রাজধানীর খাল খনন, পুনরুদ্ধার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে গঠিত কমিটিগুলো খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করবে। এসব কমিটিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।
আরও পড়ুন: আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার
সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রাজধানীর খাল, লেক ও জলাধারগুলোর সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসব জলাধার শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে খালগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে বৃষ্টির পানি প্রবাহের উপযোগী করে তোলার নির্দেশনা দিয়ে তিনি জানান, এ কাজে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে নতুন বই
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার খাল পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রথমেই সঠিক সীমানা নির্ধারণ জরুরি। ম্যাপভেদে সীমানার ভিন্নতা এবং একাধিক সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কারণে একযোগে সব খালে কাজ শুরু করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
এ প্রেক্ষাপটে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাইশটেকি খাল এবং কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে বিভিন্ন জটিলতা নিরসন করে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব পাইলট প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা, সমন্বয় কাঠামো এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তীতে রাজধানীর অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





