বাংলামোটরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর নিয়ে খবরে ডিএমপির ভিডিও দেখিয়ে স্পষ্টীকরণ
রাজধানীর বাংলামোটর ক্রসিংয়ে ৩০ আগস্ট ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিও ও সংবাদকে অসত্য, ভুল ও আংশিকভাবে উপস্থাপিত বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ডিএমপি।
আরও পড়ুন: অপ্রতিরোধ্য ঢাকায় ছিনতাই চক্র
ডিএমপি জানায়, ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বেলা ৩টা ১০ মিনিটে নগরীর রমনা ট্রাফিক জোনের আওতাধীন বাংলামোটর ক্রসিংয়ে ঘটনাটি ঘটে। এনসিপির প্রধান কার্যালয় বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে অবস্থিত। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে থেকেই গুম ও হত্যার প্রতিবাদে এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ কর্মী-সমর্থক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
এতে ক্রসিংয়ের বিভিন্ন দিকে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। তখন শুধু উত্তর-দক্ষিণমুখী যান চলাচলের সিগন্যাল চালু ছিল। পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল চালু করলে যানবাহন সামনে এগোতে না পারায় পুরো ক্রসিংয়ে যানজট বা ‘ডেডলক’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
আরও পড়ুন: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা সরকারের
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের কাছে তার শিশুর অসুস্থতার কথা জানিয়ে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে যাওয়ার জন্য সিগন্যাল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়।
ডিএমপি বলছে, ওই পুলিশ সদস্য তাকে প্রথমেই জানান, সড়কে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে পূর্ব-পশ্চিমমুখী সিগন্যাল বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসমাগম সরে গেলে সিগন্যাল চালু করা হবে। এরপরও ওই ব্যক্তি বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। পরে উত্তর অথবা দক্ষিণমুখী সড়ক দিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ওই দুই দিকে তখন যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে তিনি সেই বিকল্প পথে যেতে সম্মত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বাংলামোটর ক্রসিংয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সামগ্রিক ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
তবে ডিএমপি বিশেষভাবে জানিয়েছে, ওই সময়কার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে প্রধানমন্ত্রীর গমনাগমনের জন্য নেওয়া কোনো বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিও ও সংবাদে ঘটনাটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে না ধরায় পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। ডিএমপির দাবি, বিষয়টি মূলত আংশিক তথ্য ও ভুল-বোঝাবুঝির ফল।
এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে ভবিষ্যতে সংবাদ ও ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীলতা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।





