জাতিসংঘের সংস্কার ও আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান খলিলুর রহমানের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২২ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৮ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে বিশ্ব সংস্থাটির কার্যকারিতা বাড়ানো, নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

চলতি অধিবেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। মঙ্গলবারের বক্তব্যে খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো স্বীকার করে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন: তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিত্বের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যার বড় একটি অংশ আফ্রিকার দেশগুলো এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও মহাদেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে আফ্রিকার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এগুলো হলো—প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য অংশীজনের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

বৈশ্বিক অর্থায়নের বৈষম্যের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি জানান, উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতির সর্বজনীন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমে জাতিসংঘের ভূমিকার বিভিন্ন উদাহরণও তুলে ধরেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। বিশেষ করে পানি, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় এ প্রযুক্তির অপব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উল্লেখ করেন। এআই-ভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান তিনি।